দিল্লির পর কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ৩:৩৩ পিএম
কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে একই দিন দুপুর ১২টার দিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু দেশটির সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানায়, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে কয়েক শ মানুষ কলকাতার উপহাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় এবং একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া রঙের পতাকা হাতে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছে। এর আগের দিন সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেও বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ‘ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের’ প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয় এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে উপস্থিত হন। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দিল্লি, কলকাতা ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ভারতের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা অন্তত দুটি ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ব্যারিকেড পুনরায় স্থাপন করা হয়।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর রাতেও দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় কূটনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।