ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ‘অতিরঞ্জিত’: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বিতর্ক, ভিন্ন মূল্যায়ন দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। ছবিঃ সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান এমন একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে রয়েছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নে এ বক্তব্যের সরাসরি সমর্থন পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্য বাস্তব সক্ষমতার তুলনায় অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে।
মঙ্গলবার কংগ্রেসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, তেহরান এমন অস্ত্র উন্নয়নে কাজ করছে যা অচিরেই আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে।
তবে দুটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি অশ্রেণিবদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মূল্যায়নে পূর্বের অবস্থানেই রয়েছে ওয়াশিংটন। ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান তাদের বিদ্যমান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ যান থেকে সামরিকভাবে কার্যকর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চাইলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক হুমকির সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে সতর্ক।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনে আরও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ইস্যু নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









