খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে বিক্ষোভ, মার্কিন দূতাবাসের সামনে সংঘর্ষে নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১ মার্চ, ২০২৬ এ ৮:১৭ এএম
করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের দৃশ্য। ছবিঃ সংগৃহীত

করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের দৃশ্য। ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। উদ্ধারকারী সংস্থা এধি রেসকিউ সার্ভিস ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে করাচির সিভিল হাসপাতাল (সিএইচকে) নেওয়া হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, “করাচির সিভিল হাসপাতালে ছয়টি মরদেহ আনা হয়েছে।” এক বিবৃতিতে এধি রেসকিউ সার্ভিস জানায়, তাদের অ্যাম্বুলেন্স নিহতদের মরদেহ এবং বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন এবং ভবনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশিত হয়। ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। খামেনির মৃত্যুতে ইরান সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

বর্তমানে করাচির পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কড়া নজরদারিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।