মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আছে

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১ মার্চ, ২০২৬ এ ৯:০৩ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির আকাশদৃশ্য। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির আকাশদৃশ্য। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে অন্তত ১৯টি স্থানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার যুক্তি দেখালেও সাম্প্রতিক ইরান-সংকটের প্রেক্ষাপটে এসব ঘাঁটির গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বাহরাইন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলো বাহরাইন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। এই বহর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষায় এ ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

কাতার

দোহার বাইরে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত আল উদেইদ এয়ার বেস মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এখানে অবস্থান করছে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি নতুন এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত।

কুয়েত

কুয়েতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনা রয়েছে। ক্যাম্প আরিফজান মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলি আল সালেম এয়ার বেস, যা ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত, ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এছাড়া ক্যাম্প বুয়েরিং ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন সেনাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও লজিস্টিক কেন্দ্র।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

আবুধাবির দক্ষিণে আল ধাফরা এয়ার বেস মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এটি আইএসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় লজিস্টিক ব্যবহার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

ইরাক

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। আইন আল আসাদ এয়ার বেস পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এরবিল এয়ার বেস প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সমন্বয় ও সরবরাহ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরব

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২,৩২১ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জর্ডান

আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক আল সালতি এয়ার বেসে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। এখান থেকে লেভান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

তুরস্ক

তুরস্কের আদানা প্রদেশে অবস্থিত ইনসিরলিক এয়ার বেস যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যৌথভাবে পরিচালনা করে। ঘাঁটিটি সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ১,৪৬৫ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক ঘাঁটি আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব ঘাঁটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।