সুদানের করদোফানে বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ২৮

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৫৮ এএম
সুদানের করদোফান অঞ্চলে সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

সুদানের করদোফান অঞ্চলে সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় করদোফান অঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উত্তর করদোফান রাজ্যের সোদারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে বেসামরিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ইমারজেন্সি লয়ার্স। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংগঠনটি সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার সময় বাজারে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে ঘটনাটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। আহতদের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে, তবে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলার পরিচায়ক। এতে প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংঘাতের উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

করদোফান অঞ্চল বর্তমানে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান প্রায় তিন বছরব্যাপী সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মরুভূমির বাণিজ্যপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত সোদারি শহরটি উত্তর করদোফানের রাজধানী এল-ওবেইদ থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এল-ওবেইদ শহরটি কয়েক মাস ধরে আরএসএফ অবরোধের চেষ্টার মুখে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ব-পশ্চিম করিডর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। এই করিডর পশ্চিমের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চল থেকে এল-ওবেইদ হয়ে রাজধানী খারতুম ও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে করদোফানজুড়ে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মানবিক সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা