নাভালনির মৃত্যুর পেছনে ‘ডার্ট ফ্রগ’ বিষ? ইউরোপের বিস্ফোরক দাবি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:৩৯ এএম
কারাগারে মৃত্যুর পর অ্যালেক্সি নাভালনিকে ঘিরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগে নতুন আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে মৃত্যুর পর অ্যালেক্সি নাভালনিকে ঘিরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগে নতুন আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি–র মৃত্যুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে দাবি করেছে, তার শরীরে দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত ‘ডার্ট ফ্রগ’ থেকে প্রাপ্ত নিউরোটক্সিন ‘এপিবেটিডিন’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত বিষপ্রয়োগের ফল; তবে রাশিয়া অভিযোগটি ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস জানায়, পরীক্ষায় নাভালনির শরীরে ‘এপিবেটিডিন’-এর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এই রাসায়নিকটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে পাওয়া উজ্জ্বল রঙের ছোট বিষাক্ত ব্যাঙের শরীর থেকে নিঃসৃত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। প্রাকৃতিকভাবে রাশিয়ায় এ ধরনের বিষ পাওয়া যায় না বলেও তারা উল্লেখ করে। ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের ধারণা, নাভালনির ক্ষেত্রে বিষটি ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়ে থাকতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এপিবেটিডিন স্নায়ুতন্ত্রে তীব্র প্রভাব ফেলে। এটি স্নায়ু গ্যাসের মতো কাজ করতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, নাভালনির মৃত্যুর আগে দেখা দেওয়া উপসর্গ এই ধরনের বিষক্রিয়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রুশ কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, হাঁটার পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, মস্কো এই অভিযোগকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখছে। লন্ডনে রুশ দূতাবাস কটাক্ষ করে বলেছে, ‘কে এই ব্যাঙ নিয়ে এমন গল্প বিশ্বাস করবে?’ রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার ফল ও রাসায়নিক উপাদানের সূত্র প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করবে না।

নাভালনি দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি গ্যাজপ্রম ও রোসনেফট–এর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন। ২০১১ সালে তিনি ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ২০২০ সালে একবার বিষপ্রয়োগের শিকার হলে চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে নেওয়া হয়েছিল। সুস্থ হয়ে ২০২১ সালে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কারাগারেই ছিলেন।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, শুরু থেকেই তিনি বিষপ্রয়োগের আশঙ্কা করেছিলেন এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফল সেই সন্দেহকে জোরদার করেছে। তিনি সত্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দায় অস্বীকার করে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।