১২ বছরেই পারমাণবিক ফিউশন, গিনেস রেকর্ডের পথে আইদান


পারমাণবিক ফিউশন প্রকল্পে কাজ করা ১২ বছর বয়সী আইদান ম্যাকমুলেন এখন গিনেস রেকর্ডের অপেক্ষায়। ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের ১২ বছর বয়সী খুদে শিক্ষার্থী আইদান ম্যাকমুলেন পারমাণবিক ফিউশন সম্পন্ন করার দাবি করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অল্প বয়সে জটিল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স প্রকল্প বাস্তবায়নের এ ঘটনা তাকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সম্ভাব্য তালিকায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে সে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে।
আইদানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র আট বছর বয়স থেকেই সে পারমাণবিক ফিউশন নিয়ে কাজ শুরু করে। তবে সরাসরি যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কাজ শুরুর আগে প্রায় দুই বছর ধরে সে গভীরভাবে পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা অধ্যয়ন করে। গবেষণার মৌলিক ধারণা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো আয়ত্তে আনার পরই সে পরীক্ষায় নামে।
পারমাণবিক ফিউশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দুটি হালকা পরমাণু একত্রিত হয়ে ভারী পরমাণু তৈরি করে এবং বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। আইদান দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনেই সে তার পরীক্ষামূলক ফিউশন সম্পন্ন করেছে।
তবে এই প্রকল্পের পথ সহজ ছিল না। বিশেষ করে নিরাপত্তা ইস্যুতে তার মায়ের উদ্বেগ ছিল প্রবল। যন্ত্রপাতির সম্ভাব্য ত্রুটি বা দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি নিয়মিত সতর্ক করতেন। পরিবারের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের মধ্যেই আইদান তার গবেষণা এগিয়ে নেয়।
বর্তমানে এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেতে Guinness World Records–এ আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। এই বিভাগে বিদ্যমান রেকর্ডের অধিকারী হলেন জ্যাকসন অসওয়াল্ড, যিনি কিশোর বয়সে একই ধরনের সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সাফল্য তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। তবে পারমাণবিক গবেষণার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক যাচাই অপরিহার্য। গিনেস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সবার নজর।
সূত্র: সামা টিভি।










