ইউরোপজুড়ে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ঢেউ, রাষ্ট্রীয় নীতিতেও প্রভাব

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৭:১৬ এএম
গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আন্দোলন জোরালো আকার নিয়েছে। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন কেবল কর্মী বা নাগরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আয়ারল্যান্ডের এক সুপারমার্কেট কর্মীর ব্যক্তিগত প্রতিবাদ থেকে বিষয়টি নতুন গতি পায় এবং ধীরে ধীরে তা মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আয়ারল্যান্ডে এক কর্মী গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে চেকআউট কাউন্টারে ইসরাইলি ফল ও সবজি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। শুরুতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও শ্রমিক ইউনিয়ন ও সাধারণ মানুষের চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে পুনর্বহাল করে। ঘটনাটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের ইসরাইলি পণ্য নাড়াচাড়া বা বিক্রিতে বাধ্য না করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। যুক্তরাজ্যের কো-অপারেটিভ এবং ইতালির কো-অপ অ্যালেঞ্জা ৩.০–এর মতো কিছু খুচরা বিক্রেতা গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে নির্দিষ্ট কিছু ইসরাইলি পণ্য তাদের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অ্যাক্টিভিস্টরা ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ডান স্টোরসের কর্মীদের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, নাগরিক উদ্যোগ কখনও কখনও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতেও পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের চাপ রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিফলিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্পেন ও স্লোভেনিয়া দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। স্লোভেনিয়া ২০২৫ সালের আগস্টে এবং স্পেন ২০২৬ সালের শুরুতে আইনটি বাস্তবায়ন শুরু করে। নেদারল্যান্ডসেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর কিছু সংসদ সদস্য অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘অকিউপাইড টেরিটরি বিল’ পাসের উদ্যোগ চলমান রয়েছে, যা ইসরাইলি বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে বিলটি পাসে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে বলে দেশটির কিছু রাজনীতিবিদ অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলপন্থি সংগঠন ও ইসরাইল সরকার বর্জন আন্দোলন প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে এই আন্দোলন পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে বর্জন আন্দোলনকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক’ আখ্যা দিয়ে অর্থায়ন সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিক সমাজ, শ্রমিক সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের এই বহুমাত্রিক অবস্থান ইউরোপের বাজার ও কূটনীতিতে ইসরাইলের অবস্থানকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: Al Jazeera