বৈদেশিক মুদ্রা ঘাটতি কাটিয়ে উদ্বৃত্ত ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার


ছবি: আজকের প্রথা গ্রাফিক্স
বাংলাদেশ অবশেষে টানা চার বছরের ডলার সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো আয়ের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে উদ্বৃত্ত হয়েছে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রয়েছে এবং নতুন করে ডলারের দাম বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে ডলার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৪২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এরপর টানা আট বছর ১১ মাস অর্থাৎ প্রায় নয় বছর ঘাটতির মধ্যেই ছিল বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাব। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ ঘাটতি রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাচার কমে আসায় চলতি ঘাটতি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। সর্বশেষ অর্থবছরে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ঘাটতি কাটিয়ে উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।
ডলার সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ পাচার ব্যাপক আকার ধারণ করে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের ঘাটতি অব্যাহত থাকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুদ্রা পাচার বহুলাংশে কমে যায় এবং হুন্ডি কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে উঠলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, তখন আমদানির চাপও বৃদ্ধি পাবে। সেই পরিস্থিতিতে পুনরায় চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি টেকসই রাখতে হলে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে হবে এবং মুদ্রা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
গত কয়েক বছরে রিজার্ভের ওঠানামা দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছিল। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০৬ কোটি ডলারে পৌঁছালেও বৈশ্বিক মন্দা শুরু হওয়ার পর তা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৮২ কোটি ডলারে। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেনা পরিশোধ করেও ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩ হাজার ৮৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকায় আর দাম বাড়বে না। যদিও আয়ের তুলনায় ব্যয় কমে গিয়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হয়েছে, তবুও আপাতত ডলারের দাম কমছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।