দেশেই আন্তর্জাতিক মানের লিফট তৈরি করছে আরএফএল প্রপার্টি লিফটস


আরএফএল প্রপার্টি লিফটস । ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশের শিল্পায়ন যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আরএফএল গ্রুপের প্রপার্টি লিফটস। ১৯৮৮ সালে আমদানি নির্ভরতার মাধ্যমে লিফট ব্যবসায় যাত্রা শুরু করলেও ২০১৮ সাল থেকে নরসিংদীর ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আন্তর্জাতিক সেফটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে নিজস্ব কারখানায় পূর্ণাঙ্গ লিফট উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব কারখানায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ধীরে ধীরে কম্পোনেন্ট উৎপাদন শুরু করেছে প্রপার্টি লিফটস। উন্নত প্রযুক্তির মোটর ও কন্ট্রোল প্যানেলের পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও সেফটি টেস্টিং সিস্টেম।
দেশের বাজারে বর্তমানে প্যাসেঞ্জার, কার্গো, হাসপাতাল, হোম, ক্যাপসুল, হাইড্রোলিক ও সিজার লিফটসহ বিভিন্ন ধরণের মডেল সরবরাহ করছে প্রপার্টি লিফটস। চাহিদা ও ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এসব লিফটের মূল্য ১৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে নির্ধারিত। আমদানি করা লিফটের তুলনায় দেশীয় উৎপাদিত লিফট ৫–৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ী হলেও মান ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করছে।
বর্তমানে পায়রা থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট, কোরিয়ান ইপিজেড, বে ইকোনমিক জোন, ইউএনআইএলও অফিস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো লিমিটেড ও চট্টগ্রাম আর্মি মেডিকেল কলেজসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকল্পগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে প্রপার্টি লিফটস। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের খ্যাতনামা কোনে, ম্যাকপুয়ার্সা ও এসআরএইচ লিফটের একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে প্রপার্টি লিফটস প্রায় ৪০ শতাংশ যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে, এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
বাংলাদেশের লিফট বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যেখানে বছরে গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪৫০০ থেকে ৫০০০ ইউনিট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাজার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বহুতল ভবন বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক নগর জীবনের চাহিদা বাড়ায় লিফট এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, “একসময় বাংলাদেশের মানুষ কেবল আমদানিকৃত লিফটের ওপর নির্ভর করত, যার দাম ছিল বেশি এবং পুরোনো ভবনে বসানোর সুযোগও সীমিত ছিল। কিন্তু আমরা দেশেই বিশ্বমানের লিফট উৎপাদনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছি। এখন ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড লিফট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারি নীতি সহায়তা ছাড়া দেশীয় শিল্প টিকে থাকা কঠিন। তাই সরকারি প্রকল্পে দেশীয় লিফট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, চাই ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ।”
শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে প্রস্তুত প্রপার্টি লিফটস। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সঠিক নীতি সহায়তা ও সচেতনতা তৈরি হলে বাংলাদেশ শুধু লিফটে স্বনির্ভরই হবে না, বৈশ্বিক বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।