সবজির পর এবার মুদি পণ্যের দামে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি


সবজির পর এবার ঊর্ধ্বমুখী মুদি পণ্যের। ছবি: সংগৃহীত
বাজারে গত দুই মাস ধরে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে মুদি পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডাল, আটা ও ময়দার দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। পটল ৭০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। শসা, করলা, কাঁকরোলসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে আলুর কেজিপ্রতি দাম বেড়ে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও পাওয়া যেত ২০ টাকায়। কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাব—সব মিলিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত খরচ করতে।
মুদি পণ্যের মধ্যেও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হতো ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়, এখন সেটি বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। খোলা আটা কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ৫ টাকা বেশি। ময়দার দামও বেড়ে প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে।
ভালো মানের মসুর ডালের দাম বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে। বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া ডিম ও মুরগির দামও উচ্চমাত্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়, আর এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।
নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ক্রেতাদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামীতে বাজার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে।