প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনার ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৩৭ এএম
দুদক মামলার রায়ে হাসিনার ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

দুদক মামলার রায়ে হাসিনার ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিককে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন। এ বরাদ্দ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতায় দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া মামলায় শেখ রেহানার আরেক মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে মামলাগুলোর শুনানি সম্পন্ন হয়। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল গণমাধ্যমকে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুল হাসান ও আফনান জান্নাত কেয়া পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ শুরুতে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আরও দুইজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয় বলে জানান দুদকের এই আইন কর্মকর্তা।