এআই চ্যাটবট গ্রক বিতর্ক: ট্যাপ করলেই নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রযুক্তি ডেস্ক
৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:১৪ এএম
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কে ইলন মাস্কের চ্যাটবট গ্রক।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কে ইলন মাস্কের চ্যাটবট গ্রক।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রক ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিশু ও নারীর কয়েক লাখ অশ্লীল ও খোলামেলা ছবি তৈরির অভিযোগে গ্রকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর মধ্যেই সামনে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এখনো এমন একাধিক অ্যাপ সক্রিয় রয়েছে, যেগুলো এআই ব্যবহার করে নারী ও শিশুর নগ্ন ছবি তৈরি করতে সক্ষম।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অ্যাপগুলো সরাসরি দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের নীতিমালার পরিপন্থী হলেও এখনো তাদের অ্যাপ স্টোরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এর আগে গুগল ও অ্যাপল— উভয় সংস্থাই জানিয়েছিল, এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে এমন কোনো অ্যাপ তাদের প্ল্যাটফর্মে রাখা হবে না। নতুন এই তথ্য সেই ঘোষণার সঙ্গে স্পষ্টভাবেই সাংঘর্ষিক।

বিষয়টি সামনে এনেছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী অলাভজনক সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট। সংস্থাটি দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে থাকা এসব অ্যাপ শনাক্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, এআইয়ের সাহায্যে পোশাক পরিহিত নারীকে নগ্ন রূপে উপস্থাপন করা কিংবা বিকিনি ও অন্তর্বাসে রূপান্তর করা এসব অ্যাপের মূল কাজ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে অন্তত ৫৫টি এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ৪৭টি এমন অ্যাপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অ্যাপ সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি তৈরি করে, আবার কিছু অ্যাপ আংশিক পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে। উদ্বেগের বিষয় হলো— এসব অ্যাপ খুঁজে পেতে খুব বেশি অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। ‘নিউডিটি’ বা ‘আনড্রেস’ ধরনের সাধারণ শব্দ সার্চ করলেই এগুলো ভেসে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তথাকথিত কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অ্যাপের সহজলভ্যতা নারী ও শিশুর ডিজিটাল নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অ্যাপ গুগল ও অ্যাপল— উভয় প্ল্যাটফর্মেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এসব অ্যাপ থেকে প্রায় ৭০ কোটি ছবি ডাউনলোড করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ নির্মাতারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে দাবি করা হয়। মাত্র একটি ট্যাপ বা সহজ টেক্সট কমান্ডে আবেদনময়ী ও নগ্ন ছবি তৈরি করার সুবিধাই এসব অ্যাপের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও ভারতে একই অভিযোগে এআই চ্যাটবট গ্রকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছিল মোদি সরকার। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে অশ্লীল, আপত্তিকর ও যৌন উসকানিমূলক ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। নতুন এই রিপোর্ট সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।