উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুনে ৬ জনের মৃত্যু

আজকের প্রথা প্রতিবেদন
আজকের প্রথা প্রতিবেদন
১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৭:৪৮ এএম
উত্তরার সাততলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: সংগৃহীত

উত্তরার সাততলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার একটি সাততলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে হতাহতরা। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। বাকি নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৩ জনকে ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্ট ও দগ্ধ অবস্থায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, ফ্ল্যাটের ভেতরে অতিরিক্ত আসবাব ও দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ধোঁয়ার মাত্রা বেড়ে যায়।

ঢাকা জোন–৩–এর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর ভবনটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা বাড়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।