বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলায় শঙ্কা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:০২ এএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযান সামনে। তবে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ভারতে খেলতে যাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শঙ্কা তৈরি হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায়, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় মাটিতে শুরু হতে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে অংশগ্রহণ বাতিল হওয়ার ঘটনা এবং কলকাতায় উগ্রপন্থী হুমকির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বিসিসিআই নির্দেশ দেয় তাকে দল থেকে বাদ দিতে, যার পেছনে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচি তোলেন আপত্তি, যেখানে তিনি বলেন, “যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার কলকাতায় খেলতে আসে, আমরা সেটা হতে দেব না। মোস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়রা টাকা আয় করবে, কিন্তু এর প্রভাব পড়বে আমাদের সমাজে।”

পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে, একাধিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইপিএল ও কলকাতার কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিতে শুরু করে। এমনকি কেকেআরের সহ-মালিক শাহরুখ খানকেও লক্ষ্য করা হয়। মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নেওয়া হয়। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সরাসরি রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ না করলেও, সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সেটি স্পষ্ট বোঝা যায়।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে আমিনুল হক বলেন, “যেহেতু আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে খেলতে গেলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শঙ্কা থেকে যায়, সেজন্য বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম। আশা করি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করেছে। মোস্তাফিজুর আইপিএলে খেলায় হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে বিসিবি কি একই পথে যাবে, তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাচ্ছে।