ইসলামে কারো ঘরে প্রবেশের আগে যে নিয়ম-কানুন মানতে বলেছেন মহানবী (সা.)

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৫ এ ৬:৩৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

কারো ঘরে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি গ্রহণ করা ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ আদব। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ঘরে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে চান। সেই সময়ে অন্যের বিনা অনুমতিতে প্রবেশ বিরক্তিকর হতে পারে। তাই প্রয়োজনে কারো ঘরে প্রবেশের আগে প্রথমেই সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে— “আমি কি প্রবেশের অনুমতি পেতে পারি?”

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সাহাবিদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। হজরত কেলাদা ইবনে হাম্বল (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার বিনা অনুমতিতে রাসুল (সা.)-এর ঘরে প্রবেশ করেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন— “বাইরে গিয়ে সালাম দাও এবং বলো— আসসালামু আলাইকুম, আমি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারি?” (আবু দাউদ, তিরমিজি)। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম বলবে না, তাকে প্রবেশের অনুমতি দিও না।” (বায়হাকী)।

সাহাবায়ে কেরাম এ আদবকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতেন। এমনকি নিজের নিকটাত্মীয় কিংবা মাহরাম নারীদের কাছেও প্রবেশের পূর্বে অনুমতি চাইতেন। হজরত আবু মুসা ও হজরত হুজায়ফা (রা.) এ বিষয়ে সুপরিচিত ছিলেন। এক লোক রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— “আমি কি আমার মায়ের কাছেও যাওয়ার আগে অনুমতি চাইবো?” উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন— “হ্যাঁ, অবশ্যই।” কারণ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের নির্দেশ। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ১৭২৯)

হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) কখনো তিনবার পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি চাইতেন। যদি উত্তর না মিলতো, তবে ফিরে যেতেন। প্রবেশের সময় দরজার একপাশে দাঁড়াতেন, যেন হঠাৎ ভেতরের অবস্থা চোখে না পড়ে। (বুখারি, আবু দাউদ)। এভাবে ইসলামে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শালীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন—
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে অনুমতি না নিয়ে এবং ঘরের লোকদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।" (সুরা নূর, আয়াত : ২৭)