খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ৩:২১ এএম
খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (তারিখ) ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক নেত্রীর প্রয়াণের খবরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেমে আসে গভীর শোক। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চোখে নেমে আসে অশ্রু।

ভোরের আগেই মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে মুহূর্তের মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। কান্না, নীরবতা আর আবেগে হাসপাতাল এলাকা পরিণত হয় শোকের এক আবহে।

একই দৃশ্য দেখা যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও। অনেক নেতাকর্মী আবেগ সামলাতে না পেরে বিলাপ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়গুলোতেও শোকসভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ শুনে ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের অনেকেই শেষবারের মতো নেত্রীকে একনজর দেখার আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ৬০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম বলেন, “খবর শোনার পর আর ঘরে থাকতে পারিনি। খালেদা জিয়াকে আমি মায়ের মতো ভালোবাসতাম। শেষবারের মতো তাকে দেখতে এসেছি।” বগুড়ার সোনাতলা থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন জানান, ফজরের নামাজের পর মোবাইলে সংবাদ দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আমাদের রাজনীতির প্রেরণার নাম ছিল খালেদা জিয়া। আজ তাকে দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু আর দেখা হলো না। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।”

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে বিএনপি সারাদেশে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে শোকবার্তা ও স্মৃতিচারণা।

হাসপাতালের আশপাশের সড়কে মানুষের চাপ সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলের স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে দেখা যায়। রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটলেও কোটি মানুষের হৃদয়ে খালেদা জিয়া রয়ে গেলেন ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে।