আ.লীগ কার্যালয় খোলায় বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ অভিযোগ নাহিদের

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৩২ এএম
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নাহিদ ইসলাম। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নাহিদ ইসলাম। ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।” তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয় খোলা ও পতাকা উত্তোলনের ঘটনা রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের যোগসাজশ হয়েছে বলে তাদের ধারণা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাহিদ বলেন, “ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায়ে প্রয়োজন হলে সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”

বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রশাসন যদি অবিলম্বে এসব কার্যালয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করায় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দল বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।