আধুনিক সমাজের এক ভয়ংকর ব্যাধি

‘হানি ট্র্যাপের’ ফাঁদে পরে যেভাবে অর্থ ও সম্মান হারাচ্ছেন মানুষ

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২৪ এএম
হানি ট্র্যাপ চক্র। ছবি: সংগৃহীত

হানি ট্র্যাপ চক্র। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশলে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই নারীসহ ১২ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি এ তথ্য জানান। ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চক্রটি পরিচয়ের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আদায় করত।

গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, ওমর ফারুক, শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, ইয়াছিন, নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, কামরুল ইসলাম ও রাব্বি। পুলিশ জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

পুলিশের তথ্যমতে, ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপথ মোড় থেকে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় আটকে রাখে চক্রের সদস্যরা। সেখানে তাদের মারধর করা হয় এবং দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। পরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হলে ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি রুপার চেইন, একটি হীরার আংটি এবং বিকাশ ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়।

অন্য এক ঘটনায়, সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন সুমি। পরে তাকে বাসায় নিয়ে গেলে সেখানে ৬ থেকে ৭ জন তাকে মারধর করে আট লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী তার কাছে থাকা ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি বলেন, “চক্রের সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে সম্পর্ক তৈরি করত। এরপর কৌশলে ডেকে এনে জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আমরা তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি জানান, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।