রমজানে ইফতার পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, লেবুর হালি ১২০ টাকা


রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে ইফতার পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। তিন দিনের ব্যবধানে শসা ও লেবুর দাম দ্বিগুণ, লেবুর হালি ১২০ টাকা। মুড়ি, খেজুর, বেসন ও সরিষার তেলের দামও বেড়েছে। বাজারে তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজধানীর খুচরা বাজারে ইফতার পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। সংকট না থাকলেও মুড়ি, খেজুর, বেসন, শসা ও লেবুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম নীরবে বাড়ছে। সোমবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে শসা ও লেবুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।
রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা ও মালিবাগ কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোল শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা চার দিন আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লেবুর হালি তিন দিন আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।
ইফতারের প্রধান উপাদান মুড়ি, খেজুর ও বেসনের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি মানের খেজুর কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে ছিল। বেসন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০ থেকে ১২০ টাকা।
সরিষার তেলের দামও বেড়েছে। বোতলজাত সরিষার তেল লিটারপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা লিটার, যা সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা আঁটিপ্রতি ৩০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ২০ টাকা। ইসবগুলের ভুসি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা, এক মাস আগে যা ১০০ টাকা কম ছিল। ৫০ গ্রাম প্যাকেটজাত ট্যাঙ বিক্রি হচ্ছে ৪২৫ টাকায় এবং ৭০০ মিলি রুহ-আফজা ৫৫০ টাকায়।
রাজধানীর মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “প্রতি রোজায় ইফতার পণ্যের দাম বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেখার যেন কেউ নেই।” বাজারে সংকট না থাকলেও দাম বাড়ানোর অভিযোগ করছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রোজা শুরুর আগে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য না কিনলে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেন তিনি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, রমজান ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইফতার পণ্যের বাজারও নজরদারির আওতায় থাকবে বলে তিনি জানান।










