নিউইয়র্ক আদালতে আজ হাজির করা হচ্ছে নিকোলাস মাদুরোকে


নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত, যেখানে আজ হাজির করা হচ্ছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আজ প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হচ্ছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তোলা হবে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর রাতে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার রাতে তাদের নিউইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে মাদুরো এর আগেও এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
রোববার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতের এক মুখপাত্র জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে ম্যানহাটনের আদালতে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠ করা হবে এবং প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই শুনানির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় মামলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
এদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। দ্য আটলান্টিক সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ডেলসি রদ্রিগেজ যদি সঠিক পথে না চলেন, তবে তাকে নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।” মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের বিরোধিতা করায় রদ্রিগেজকে এই সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, নিকোলাস মাদুরোর বিচার শুধু ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং লাতিন আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের আজকের শুনানির দিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।










