মাদুরোকে মুক্তি দিতে জাতিসংঘে আবেদন করল ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৪৭ এএম
ভেনেজুয়েলা সরকারের আধিকারিকরা জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবি জানালেন। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলা সরকারের আধিকারিকরা জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবি জানালেন। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সোভিয়েত শাসিত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ভাষণে এই দাবি জানান। তিনি বলেন, মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অবিলম্বে মুক্ত করা উচিত।

জেনেভায় ওই ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গত জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র আমলে মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কে বিচারাধীন অবস্থায় তিনি বন্দী রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার পক্ষ এই ঘটনাকে “অবৈধ সামরিক অভিযান” হিসেবে ঘােষণা করেছে এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মাদুরো নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের মাদকপাচার এবং অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে “যুদ্ধবন্দি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই অভিযানের ফলে দেশটিতে ১০০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

গিল পিন্টো বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য সামাধানে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছি।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রযুক্তিগত ও সামরিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক শান্তি ও সংলাপে বিশ্বাস করে কারাকাস সরকার এগিয়ে চলেছে বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ভেনেজুয়েলার আইনসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সাধারণ ক্ষমা আইনের কথাও উল্লেখ করেন। এতে দেশটি অতীতের ক্ষত, ক্ষমা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্য দিবসের রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর বিশ্বজনীন মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারিভাবে এ নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।