বিটকয়েনের দামে বড় ধাক্কা, নামল ৭০ হাজার ডলারের নিচে


বিটকয়েনের দাম ৭১ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো বাজারে পতনের সৃস্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ৭১ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর যে পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তা টানা এক সপ্তাহের দরপতনের ফলে সমপর্যায়ের নীচে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) একদিনে বিটকয়েনের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই দরপতন এখনও অব্যাহত রয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে বিটকয়েনের দাম লেনদেন হচ্ছিল প্রায় ৭০,৯০০ ডলারে।
সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো প্রতি বিটকয়েনের দাম এক লাখ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসেও দাম সেই সীমা অতিক্রম করেছিল। তবে অক্টোবরে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি দামে পৌঁছানোর পর দাম নিম্নমুখী হয়ে আসে।
ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিটকয়েনসহ অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার দাম দ্রুত বেড়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির রাজধানী’ বানানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। এছাড়া নির্বাচনের আগে তিনি ও তার ছেলে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন।
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একটি কৌশলগত ক্রিপ্টো রিজার্ভ গঠনের ঘোষণা দেন, যেখানে বিটকয়েনসহ আরও চারটি ক্রিপ্টোকারেন্সি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত ক্রিপ্টো লেনদেন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আটকে আছে। ব্যাংক ও ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিলটি পাস না হওয়ায় খাতটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে বুধবার ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা রো খান্না জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল নিয়ে তদন্ত করবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবির এক কর্মকর্তার প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
বিটকয়েনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে শেয়ার ও পণ্যবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। রুপার দাম এক পর্যায়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে হংকংয়ের প্রধান শেয়ার সূচক প্রায় ১.৩ শতাংশ এবং জাপানের সূচক ০.৭ শতাংশ কমেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা








