জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর

৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৩৮ এএম
তৈরি পোশাকসহ হাজারো পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, বাড়বে রপ্তানি ও বিনিয়োগ। ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাকসহ হাজারো পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, বাড়বে রপ্তানি ও বিনিয়োগ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ মোট ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শুক্রবার টোকিওর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী অর্জন, কারণ এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে পৌঁছাল। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা ও টোকিওতে মোট সাত দফা আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এই ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং জাপানের সঙ্গে আমাদের গভীর পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

ইপিএর আওতায় বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা—উভয় খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিপরীতে, বাংলাদেশও জাপানের জন্য বাজার উন্মুক্ত করবে, যার ফলে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

চুক্তিতে পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকায় কাঁচামালের জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক জাপানে রপ্তানি সহজ হবে। পাশাপাশি, আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংসহ প্রায় ১৬টি বিভাগের ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জাপানে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পখাতের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এই ইপিএ বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।