Something went wrong

আফ্রিকান জাতের শামুকের দাপটে মধুপুরে কৃষকের দুশ্চিন্তা

আরশেদ আলম (ভ্রাম্যমাণ) প্রতিনিধি
আরশেদ আলম (ভ্রাম্যমাণ) প্রতিনিধি
৩১ আগস্ট, ২০২৫ এ ১০:১৪ এএম
মধুপুরে ছড়িয়ে পড়েছে  আফ্রিকান জাতের শামুক

মধুপুরে ছড়িয়ে পড়েছে আফ্রিকান জাতের শামুক

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইলের (স্থলচর আফ্রিকান শামুক) দাপটে ফল-ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দোখলা গ্রামের কৃষক ফরমান আলী জানান, তিনি ২০ একর জমিতে পেঁপে আবাদ করেছেন। গাছে ফুল আসার পর থেকেই শামুক পাতাগুলো খেয়ে ফেলছে। ফলে ফলন কমে যাচ্ছে। শামুক নিধনের জন্য বাড়তি শ্রমিক ভাড়া করতে হচ্ছে। একই অবস্থা কলা, আনারস, আম, লাউ ও কুমড়ার ক্ষেতেও।

বেড়িবাইদ ইউনিয়নে প্রথম দেখা মিললেও বর্তমানে আশপাশের ৫০ গ্রামের ক্ষেত-খামারে ছড়িয়ে পড়েছে এ শামুক। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, লবণ, পটাশিয়াম ছিটানো বা পিষে ফেলা ছাড়া এদের নিধনের কার্যকর পদ্ধতি নেই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শামুক এখন শুধু খেতেই নয়, বাড়িঘরেও ঢুকে পড়ছে। আঙিনার গাছপালা, এমনকি ওয়াশরুম ও রান্নাঘর পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ শামুককে শুধু ক্ষতিকর দৃষ্টিতে দেখলে ভুল হবে। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ শামুকের মাংস ‘হোয়াইট মিট’ হিসেবে জনপ্রিয়। এর মাংস হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া শামুকের লালা থেকে তৈরি পাউডারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি—এক কেজির দাম প্রায় ৫৪ হাজার ডলার। যা দিয়ে দামি ওষুধ, কসমেটিকস ও ফেসিয়াল পণ্য তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করলে এ শামুক বাংলাদেশে নতুন বৈদেশিক আয়ের খাত হতে পারে। তবে কৃষকরা আপাতত এর উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর সমাধান চাইছেন।

Advertisement
Advertisement