ভারত বিতর্কে বাংলাদেশকে সমর্থন, যা বললেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:৫৫ এএম
স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন নাসের হুসেইন। ছবি: সংগৃহীত

স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন নাসের হুসেইন। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত ইস্যুতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাসের হুসেইন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্কাই স্পোর্টসের এক পডকাস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্ত, আইসিসির পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।


স্কাই স্পোর্টসে মাইক অ্যাথারটনের সঙ্গে আলোচনায় নাসের হুসেইন বলেন, বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থেকে খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, যা ইতিবাচক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকেও তিনি প্রশংসা করেন।


নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা ও ভারতে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের আগে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।


ঘটনার সূত্রপাত ৩ জানুয়ারি, যখন বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।


বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। নাসের হুসেইনের মতে, আইসিসি বা ভারতের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে এটি পাকিস্তানের একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়।


তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব বাড়তে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারতের আর্থিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি সতর্ক করে দেন, ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। যদি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে বারবার কোণঠাসা করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো একপেশে হয়ে যেতে পারে।


বর্তমানে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আইসিসি, বিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন ক্রিকেটভক্তরা