আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালোবাসেন কিনা বুঝবেন যেভাবে


ছবি সংগৃহীত
প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষা হলো আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা অর্জন করা। কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া পরকালীন মুক্তি ও চূড়ান্ত সফলতা সম্ভব নয়। মানুষ যত কাজই করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তার চাওয়া একটাই—আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আল্লাহ কাকে ভালোবাসেন এবং কীভাবে একজন মুমিন বুঝবেন যে তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের একজন?
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর ভালোবাসা শুধু ইবাদতের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কিছু সূক্ষ্ম ও গভীর আলামত রয়েছে, যা একজন মুমিনের জীবনে প্রকাশ পেলে বোঝা যায়—আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে তিনি এমন চারটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের কথা তুলে ধরেছেন।
প্রথম আলামত হলো—মানুষের ভালোবাসা অর্জন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিব্রাইল (আ.)-কে নির্দেশ দেন সেই বান্দাকে ভালোবাসতে। এরপর আকাশবাসীদের মধ্যেও তার প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জমিনেও সে বান্দা মুমিনদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, এখানে মানুষের ভালোবাসা বলতে সাধারণ জনপ্রিয়তা নয়; বরং ঈমানদার ও নেককার মানুষের ভালোবাসাকেই বোঝানো হয়েছে।
দ্বিতীয় আলামত হলো—দুনিয়ামুখিতা না থাকা। আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার অন্তরে পদ-পদবি, অর্থ-সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মোহ কমিয়ে দেন। অনেক সময় আল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য থেকে দূরে রাখেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, যাদের দুনিয়া দেওয়া হয় তারা আল্লাহর অপছন্দনীয়। বরং ইতিহাসে এমন বহু প্রিয় বান্দা রয়েছেন, যাদের দুনিয়া দেওয়া হলেও তাদের হৃদয়ে দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ছিল না।
তৃতীয় আলামত হলো—বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া। আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তাদের তিনি পরীক্ষায় ফেলেন। নবী-রাসুলদের জীবনেই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের জন্য দুনিয়া হলো কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাতসদৃশ। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ঈমানদারের জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদ আসা মানেই আল্লাহ তাকে ভুলে গেছেন—এমন নয়; বরং অনেক সময় এটি আল্লাহর বিশেষ দয়ারই প্রকাশ।
চতুর্থ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো—দ্বীনি জ্ঞান ও নেক আমলের তাওফিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, আল্লাহ যাকে কল্যাণ দিতে চান, তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ দান করেন। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের সুযোগ দেন, যাতে সে সৎ অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারে। আলেমদের মতে, নিয়মিত ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা আল্লাহর ভালোবাসার বড় নিদর্শন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষায়, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা গোপনে রাখেন না। বরং জীবনের নানা পর্যায়ে এসব আলামতের মাধ্যমে তিনি নিজেই জানান দেন। তাই নিজের জীবন পর্যালোচনা করে এসব লক্ষণ খুঁজে দেখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অটল থাকার চেষ্টা করাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।




