আত্মহত্যার অনুসন্ধান করলেই বাবা-মা পাবেন সতর্কবার্তা


ইনস্টাগ্রাম। ছবি : সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে, কোনো কিশোর বা কিশোরী যদি বারবার আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতি (self-harm) সংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধান করে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অভিভাবকদের নোটিফিকেশন পাঠানো হবে।
নতুন এই নিয়ম ‘প্যারেন্টাল সুপারভিশন’ ফিচারের আওতায় থাকা অ্যাকাউন্টে প্রযোজ্য হবে। কিশোর ব্যবহারকারী যদি সংবেদনশীল শব্দ বা বিষয় বারবার সার্চ করে, অ্যাপ তা শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবককে সতর্কবার্তা পাঠাবে। পাশাপাশি অভিভাবকরা পেশাদার পরামর্শও পাবেন, যাতে তারা সন্তানের সঙ্গে সংবেদনশীলভাবে আলোচনা করতে পারেন।
এর আগে, ইনস্টাগ্রামে আত্মক্ষতিমূলক বিষয় সার্চ করলে তা ব্লক করা হতো এবং ব্যবহারকারীকে সহায়তামূলক রিসোর্সের দিকে নির্দেশ করা হতো। এবার প্রথমবারের মতো অভিভাবক সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক নজরদারি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
প্রাথমিকভাবে ফিচারটি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চালু হবে। বছরের শেষের দিকে এটি বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নিয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে, ব্রিটেন ও ইউরোপের কিছু দেশও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে।
মেটার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের কঠোর নীতি রয়েছে যা আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতিকে উৎসাহিত করে এমন বিষয়বস্তু প্রচার নিষিদ্ধ করে। নতুন এই অ্যালার্ট ব্যবস্থা কিশোরদের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টার অংশ।” সম্প্রতি এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে অনলাইনে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিন অ্যাকাউন্টের সেটিংস পরিবর্তনের আগে বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন সার্চ অ্যালার্ট সিস্টেম অভিভাবকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এটি কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা ও পরিবারভিত্তিক তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।










