আজ পবিত্র শবেকদর: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত


আজ পবিত্র শবেকদর। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাতের ইবাদত, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর অসীম রহমত ও বরকত লাভের সুযোগ পাবেন।
আজ দিনগত রাতে পবিত্র শবেকদর। সন্ধ্যার পর থেকে সারা দেশে শুরু হবে বরকতময় এই রাতের ইবাদত। মুসলমানরা পুরো রাত ইবাদত, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবেন। পবিত্র কুরআনও এ রাতেই নবীজির (সা.) ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।
শবেকদরের মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে: “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) অবতীর্ণ হয়” (সুরা কদর, আয়াত ১-৫)। অর্থাৎ, এক রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান।
ইসলামি ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়, এক ব্যক্তি হাজার মাস ধরে আল্লাহর ইবাদত করলেও তার অর্জন সীমিত ছিল। মহান আল্লাহ শবেকদরের মাধ্যমে উম্মতকে কম সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ দিয়েছেন। নবীজি (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিয়েছেন, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় এই রাত খুঁজতে। অনেক সাহাবি ২৭তম রাতটিকে শবেকদরের রাত মনে করেছেন।
এই রাতে একজন মুমিনের উচিত বেশি নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আয়েশা (রা.) নবীজির (সা.) কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি শবেকদর লাভ করেন, কী দোয়া করবেন। তখন নবীজি শেখান: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
শবেকদর রাতের ইবাদত ও দোয়া বান্দাকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমর্পণের একটি বিশেষ সুযোগ প্রদান করে। মুসলমানরা এই রাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আল্লাহর অসীম রহমত ও বরকত লাভের তৌফিক প্রার্থনা করেন।
মুমিনদের উচিত এ রাতকে পবিত্রভাবে পালন করে নিজ জীবনের ভুল ও পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নবীন উদ্যমে জীবন গঠনের অঙ্গীকার করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবেকদরের বরকত লাভের তৌফিক দান করুন।









