‘শবে কদর’ হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ইবাদতের রাত


শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও বরকতময় রাত। এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ, ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ, এবং পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা হয়। দোয়া ও ইতেকাফের মাধ্যমে নেক সওয়াব লাভ করুন।
মর্যাদার এক রাত শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। কুরআনের নাজিল ও হাদিসের আলোকে এ রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ রাতে ইবাদাতকারীর পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা পায়।
মর্যাদার ব্যাখ্যা:
কুরআনের ভাষায় এ রাতকে ‘লাইলাতুল কদর’ বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। এ রাত এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয়। শান্তি ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা আল-কদর)
কুরআনের বরকত:
সুরা দুখানে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “আমি এক বরকতময় রাতে কুরআন নাজিল করেছি। প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরিকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সুরা দুখান : আয়াত ২-৬)
হাদিসের আলোকে গুরুত্ব:
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদর জেগে ইবাদাত করবে, তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা হবে।” (বুখারি ১৯০১)
দোয়া ও ইবাদতের নির্দেশনা:
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ রাতের দোয়া হবে:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
উপস্থিতির নির্দেশনা:
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইফতারের আগে যারা ইতেকাফে বসবেন, তাদেরকে মসজিদে উপস্থিত হতে হবে। এ মিশনই মর্যাদা, সওয়াব ও ঐতিহ্যের রাত শবে কদর লাভের মাধ্যম।










