সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষার সব আবেদন ফি বাতিলের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৩৬ এএম
বনানীর একটি হোটেলে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

বনানীর একটি হোটেলে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের আবেদন ফি বাতিল এবং স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব স্তরের ভর্তি পরীক্ষার ফি তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহারে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে যে ফি নেওয়ার প্রচলন রয়েছে, তা পুরোপুরি বাতিল করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাকে সহজ ও সর্বজনীন করতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্তরে ভর্তি পরীক্ষার ফি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

‘ভিশন: সবার আগে যুবসমাজ’ অংশে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যোগ্যতাই হবে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড, বয়স কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হবে না।

শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে অষ্টম শ্রেণির পর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাকে চারটি ধারায় বিভক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—ইসলামিক শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

ইশতেহারে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে প্রথম দুই সেমিস্টারের ফি সরকার বিনা সুদে বহন করবে বলেও উল্লেখ রয়েছে। দেশের ভেতরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো চালু এবং শিক্ষকদের ধাপে ধাপে উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষায় বৈষম্য দূর করতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নারীশিক্ষার প্রসারে স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি।

ইশতেহার অনুযায়ী, জামায়াত শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার আনতে চায়।