আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড


আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লব চলাকালে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা সাত হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় আশুলিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ। রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তরুণ ছাত্রদের হত্যা এবং পরবর্তী সময়ে প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে লাশ পোড়ানোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দির মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, “এই মামলার ঘটনাটি মানবতার ইতিহাসে অন্যতম বর্বর উদাহরণ। শুধু গুলি করে হত্যা নয়, একজনকে জীবন্ত অবস্থায় এবং অন্য পাঁচজনের লাশ পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সভ্য সমাজে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা এমন অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়াই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার ও ডিবির একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ অপর আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত বছরের ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, শতাধিক পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং ডিজিটাল আলামত সংযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন, যা পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় রায় এবং ট্রাইব্যুনাল–২-এর প্রথম রায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একজন গুরুতর আহত অবস্থায় মারা যান পরে। হত্যার পর নিহতদের লাশ একটি পুলিশ গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ছয়জন শহীদ হন, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা গড়ায়।










