ইসির মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ঘিরে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রতিবাদ

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৫৫ এএম
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি করতে পারে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করবে।

ইসির নির্দেশনাকে ‘হঠকারী’ ও ‘ভোট জালিয়াতির সুযোগ করে দেওয়ার কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে, এমনকি মোবাইল সাংবাদিকতা বা নাগরিক সাংবাদিকতার সুযোগও থাকবে না।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এমন সিদ্ধান্ত আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানানো সম্ভব হবে না। অনেক ভোটার নিরাপত্তাহীনতার কারণে মোবাইল ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে ভোট কারচুপি, গণমাধ্যমকে ব্ল্যাকআউট করা এবং নাগরিকদের তথ্য অধিকার রুদ্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি জানান, এ ধরনের আইন বা নির্দেশনা মানা হবে না।

ইসির এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভোটকেন্দ্র এলাকায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার কোনো তথ্য বা ফুটেজ ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জাতির ওপর ‘নব্য ফ্যাসিজম’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য।