মোবাইল নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ইসি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের


ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নাহিদ ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান নির্বাচনি পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচন নিয়ে যেসব শঙ্কা ছিল, সেগুলো সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হবে কি না—এমন প্রশ্নে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কোনোভাবেই তিন দিন সময় লাগবে না। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা ও একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহ করা যাবে বলে তিনি জানান। তবে দুর্গম কিছু এলাকায় সামান্য বিলম্ব হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অতীতের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হবে।
নির্বাচনের দিন মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে এমন কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ কাজ করবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার।









