মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ই-ভিসা ও মোবাইল অ্যাপ চালু

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৫৯ পিএম
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে ই-ভিসা ব্যবস্থা ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে মালদ্বীপ সরকার। এ লক্ষ্যে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ। শনিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা, ভিসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

বৈঠকে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল জানান, মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও একটি আধুনিক ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে নিজেদের ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন এবং নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যেসব প্রবাসীর বৈধ ভিসা রয়েছে, তারা নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তর করতে পারবেন। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই ই-ভিসা ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের প্রতারণা ও শোষণ থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, ডলার সংকট নিরসনে নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি প্রতারণায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাওয়া একাধিক অভিযোগ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বস্ত করেন যে, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটি (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।