সুন্দরী না হওয়ায় ট্যারান্টিনোর সিনেমা থেকে বাদ পড়েন জেনিফার লরেন্স


হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
হলিউড তারকা জেনিফার লরেন্স জানিয়েছেন, নিজের চেহারা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার কারণেই কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনো পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’-এ তিনি অভিনয়ের সুযোগ পাননি। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বিষয়টি প্রকাশ করেন এই অস্কারজয়ী অভিনেত্রী।
৩৫ বছর বয়সী ‘ডাই মাই লাভ’ খ্যাত লরেন্স জনপ্রিয় ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড উইথ জোশ হোরোভিটজ’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেন, ট্যারান্টিনোর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্যই তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ওই ছবিতে অভিনয় করেন ব্র্যাড পিট, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও মার্গট রবির মতো তারকারা।
পডকাস্টে উপস্থাপক জোশ হোরোভিটজ জানান, ট্যারান্টিনো একাধিকবার লরেন্সকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ‘দ্য হেটফুল এইট’ সিনেমার জেনিফার জেসন লেই চরিত্রটি মূলত লরেন্সকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল। এ বিষয়ে লরেন্স স্বীকার করেন, ছবিটির প্রস্তাব তিনি নিজেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যা পরে তার ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে।
তবে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’-এ তাকে দেখা না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, অনলাইনে আলোচনা শুরু হয় যে তিনি শ্যারন টেট চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যথেষ্ট সুন্দরী নন। এই সমালোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
লরেন্স বলেন, “পরিচালক আমাকে নিতে চাইলেও নেটদুনিয়ায় বলা হতে থাকে, আমি শ্যারন টেট হওয়ার মতো সুন্দরী নই। বিষয়টি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত নির্মাতারাও আর আমাকে ওই চরিত্রে নিতে আগ্রহ দেখাননি।”
শেষ পর্যন্ত শ্যারন টেটের চরিত্রে অভিনয় করেন মার্গট রবি। বাস্তব জীবনের অভিনেত্রী ও মডেল শ্যারন টেট ১৯৬৯ সালে কুখ্যাত ম্যানসন পরিবারের হামলায় নিহত হন, যা হলিউড ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড।
উল্লেখ্য, ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’ সিনেমাটি ১৯৬৯ সালের লস অ্যাঞ্জেলেসকে পটভূমি করে নির্মিত। এতে এক অভিনেতা ও তার স্টান্ট ডাবলের গল্প দেখানো হয়েছে, যারা নিজেদের ক্রমশ ম্লান হয়ে আসা ক্যারিয়ার ধরে রাখার সংগ্রামে ব্যস্ত। শ্যারন টেট হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটির গল্প এগিয়ে যায়।










