ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের পাল্টা কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৭:৫০ এএম
প্রতীকী সংগৃহীত ছবি

প্রতীকী সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে সময় বেঁধে দেওয়ার পর পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres-কে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে ইরান জানায়, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির ইঙ্গিত’ দেয়। তেহরানের ভাষ্য, যদি কোনো সামরিক হামলা হয়, তাহলে ইরান ‘সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। তবে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে স্পষ্ট করে দেয় তেহরান।

একইদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, পরমাণু চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেন, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে তেহরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা দিত। ট্রাম্পের ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এখন আরও এক ধাপ এগোতে হবে। না–ও হতে পারে। হয়তো একটি চুক্তি হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সম্ভবত তা জানা যাবে।”

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-ও ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি আক্রমণ করে, তাহলে এমন জবাব দেওয়া হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। তার এই মন্তব্যের পরপরই ট্রাম্পের বক্তব্য সামনে আসে, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে নজর এখন সম্ভাব্য চুক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সামরিক সংঘাত এড়াতে আলোচনার পথ কতটা খোলা থাকে, তা আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।