Something went wrong

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন ঘাঁটিতে কত সৈন্য আছে

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৩৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা। ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা। ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। Donald Trump-এর নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ইরানে হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সূত্র জানায়। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই সামরিক বাহিনী অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের কত সেনা মোতায়েন আছে, কোন কোন ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় পড়তে পারে এবং ঝুঁকি কতটা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে Jordan-এ। সেখানে আনুমানিক চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। আকাশপথে ইরান থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার। ইরান সম্প্রতি যে ‘কাশেম বাছির’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে, তার পাল্লা প্রায় একই দূরত্বের বলে দাবি করা হয়। ফলে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি তাত্ত্বিকভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

ইরানের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর-৪’-এর পাল্লাও প্রায় একই বলে জানা যায়। অতীতে ইসরায়েলের দিকে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরান তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। যদিও ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থাকার দাবি ইরান বারবার করলেও, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তবুও ইরান স্পষ্ট ভাষায় বলে আসছে, আগ্রাসন হলে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। Council on Foreign Relations-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। Bahrain, Egypt, Iraq, Israel, Kuwait, Qatar, Saudi Arabia, Syria, Oman এবং United Arab Emirates-এ মার্কিন সেনা, বিমান ও নৌ ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া Turkey ও Djibouti-তেও বড় সামরিক ঘাঁটি আছে, যদিও সেগুলো ভিন্ন আঞ্চলিক কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো বিস্তৃত হলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নতুন কৌশলগত হিসাব তৈরি করেছে। সরাসরি সংঘাত শুরু হলে উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত না হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে উভয় দেশই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য থাকলেও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

Advertisement