ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:১৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ইরান হামলার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেননি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ব্রিটিশ সরকার অনড় অবস্থান নিলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ঘাঁটি থেকে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ব্রিটেন অনুমতি দেয়নি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভয়ংকর এবং অস্থিতিশীল শাসনের অবসান ঘটাতে’ ব্রিটিশ ঘাঁটিটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্টভাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনব্যবস্থাকেই ইঙ্গিত করেছেন। তবে কিয়ার স্টার্মারের সরকার নিজেদের অজান্তে কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায়নি।

২০০১ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশের সামরিক অভিযান হলে ব্রিটেন দায়ভার ভাগ করে নেবে, কিন্তু শর্ত হলো অভিযানের বিস্তারিত আগে জানানো প্রয়োজন। সুইন্ডনের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালালে ব্রিটেনকে আগাম জানাতে বাধ্য করা হয়নি। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার অনুমোদন দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে। সিএনএন ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত মার্কিন সেনারা অবস্থান নিচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।