আল জাজিরার মতামত

যুক্তরাষ্ট্রকে রুখে দেওয়ার আহ্বান: অহিংস বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:০৯ এএম
বিশ্বব্যাপী মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বয়কটের আহ্বান। ছবি সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বয়কটের আহ্বান। ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের নজির স্থাপন করেছে—এমন দাবি করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডোনাল্ড আর্ল কলিন্স। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত ও সামরিক হুমকির ধারাবাহিকতায় এখনই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিশ্বব্যাপী সংগঠিত অহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অধ্যাপক কলিন্সের মতে, গত এক বছরে ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে ‘লোক দেখানো’ কূটনীতি, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড ও ইরানকে ঘিরে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি বিশ্বে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

তিনি বিশেষভাবে নাইজেরিয়ায় বোমা হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় অনুপ্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টার মতো ঘটনার উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের প্রবণতাকে স্পষ্ট করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।”

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরেন কলিন্স। নিবন্ধে বলা হয়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র এবং মিনেসোটার রেনে নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

কলিন্সের যুক্তি, অন্য কোনো দেশ এভাবে নিজ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে পশ্চিমা বিশ্ব কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড স্পষ্ট, যা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের দেখানো অহিংস আন্দোলনের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। ১৯৫০-এর দশকের মন্টগোমারি বাস বর্জনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত বয়কট ও বিনিয়োগ প্রত্যাহার কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বর্জন, আমাজন, গুগল ও পালান্টিরের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ কমানো এবং মার্কিন গণমাধ্যমের একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

অধ্যাপক কলিন্স সতর্ক করে বলেন, কেবল উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুসংগঠিত অর্থনৈতিক চাপ। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক কিংবা কোচেলা ও মেট গালার মতো বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আয়োজন বর্জনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বার্তা দেওয়া যেতে পারে যে সামরিকবাদ ও বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ। উপসংহারে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের আদর্শ অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।