নিউইয়র্কবাসীকে নবী (সা.)–এর হিজরতের গল্প শোনালেন মেয়র মামদানি


নিউইয়র্কে আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অভিবাসন নীতি ও সহমর্মিতার পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর হিজরতের কাহিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুক্রবার একটি আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় তিনি এ বার্তা দেন।
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় বক্তব্যে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, "আমি আমার নিজ ধর্ম ইসলামকে দেখি অভিবাসনের কাহিনির ওপর প্রতিষ্ঠিত। হিজরতের কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও একজন পরবাসী ছিলেন, যিনি মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আশ্রয় পেয়েছিলেন।"
মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে সহমর্মিতা ও আশ্রয়ের পক্ষে যুক্তি দিতে এই উদাহরণ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এই গল্প নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে সংহতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সহানুভূতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা জোরদার করতে এবং সিটি সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মামদানি বলেন, "এটি কেবল আমাদের অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সব নিউইয়র্কবাসীর জন্য। এ আদেশের মাধ্যমে কোনো বাসিন্দা বৈধ বা অবৈধ হোক না কেন শহরের সেবা নির্ভয়ে গ্রহণ করতে পারবে।"
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থা বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারবে না। মেয়র মামদানি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে, কোনো নিউইয়র্কবাসী অভিবাসী হওয়ার কারণে শিশু যত্নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য আবেদন করতে ভয় পাবেন না।"
মেয়র মামদানি আরও উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ শহরের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে—অভিবাসী সম্প্রদায়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জননিরাপত্তার প্রতি। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক শহর হবে এমন একটি স্থান যেখানে প্রতিটি বাসিন্দা নিরাপদভাবে বাস করতে পারবে।
নিউইয়র্কে মেয়র জোহরান মামদানির এই উদাহরণ এবং নির্বাহী আদেশ অভিবাসী সম্প্রদায়কে শহরের সেবা গ্রহণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










