ইরানকে পাঁচ কঠোর শর্ত ট্রাম্পের, না মানলে হামলার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৭:১৭ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে পাঁচটি নতুন শর্ত দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত আলোচনার আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো হয়। শর্ত না মানলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় বসাতে সক্ষম হন। তবে আলোচনার শর্ত হিসেবে তিনি তেহরানের সামনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন:

১. সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরানো।
২. ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।
৩. ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।
৪. মিসাইল কর্মসূচি বা উৎপাদন বন্ধ করা।
৫. সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সংস্থা চ্যাথাম হাউজের পরিচালক ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স মনে করেন, সবচেয়ে বিতর্কিত শর্ত হলো ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা। তার মতে, এসব মিসাইলই ইরানের প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ছাড়া দেশ কার্যত প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচটি শর্ত ইরানের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। অনেকের ধারণা, শর্তগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যেন ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রত্যাখ্যান মানে হতে পারে নতুন সামরিক হামলার সম্ভাবনা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে কি না, তা নির্ভর করছে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর। শর্ত মেনে আলোচনার পথে হাঁটবে নাকি প্রত্যাখ্যান করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে—সেই সিদ্ধান্তই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।