গাজায় ইসরাইলি হামলায় বাষ্পীভূত ফিলিস্তিনিরা, ২৮৪২ নিখোঁজ


গাজার ধ্বংসস্তূপে ইসরাইলি হামলার পর উদ্ধার কাজ চলছে; থার্মোবারিক বোমার প্রভাবে ফিলিস্তিনিরা নিখোঁজ। ছবি: সংগৃহীত
গাজা, মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি): ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্রতার মধ্যে ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। আলজাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী এমন ধরণের বোমা ব্যবহার করছে যা অল্প সময়ে মানুষের দেহকে উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার সিভিল ডিফেন্স টিম ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনিকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ভোরে গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে বোমা হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে ছেলে সাদের সন্ধান করছিলেন ইয়াসমিন মাহানি। তিনি বলেন, “আমি মসজিদের ভেতরে ঢুকেছিলাম এবং নিজেকে রক্ত ও মাংসের উপর হাঁটতে দেখলাম। আমরা সাদের কোনো চিহ্ন পাইনি। এমনকি দাফনের জন্য লাশের একটি টুকরোও পাওয়া যায়নি।”
গাজার স্বাস্থ্য ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনারা থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করছে, যা ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ উৎপন্ন করতে সক্ষম। রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, “এই অস্ত্র শুধু হত্যাই করে না, বরং দেহকে ছাইয়ে পরিণত করে দেয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও টাইটানিয়ামের সংমিশ্রণ তাপমাত্রা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষের দেহের প্রায় ৮০ শতাংশ পানি। “৩ হাজার ডিগ্রি তাপ এবং প্রচণ্ড চাপের সংস্পর্শে পানি তৎক্ষণাৎ বাষ্পে পরিণত হয়। টিস্যুগুলো ছাইয়ে পরিণত হওয়া অনিবার্য,” তিনি জানান।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “আমরা বাড়ি পরিদর্শন করি এবং পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা মিলাই। যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে এবং আর কোনো জৈবিক চিহ্ন না পাওয়া যায়, তাহলে তাকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।”
এই বোমা হামলার কারণে ফিলিস্তিনে ইতিমধ্যেই ৭২ সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন।










