নতুন সরকার পাচ্ছে ভঙ্গুর অর্থনীতি

ক্ষমতায় এসেই গভীর অর্থ সংকটে পড়তে পারে সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:৫৫ এএম
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা—নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারকদের বৈঠকের প্রতীকী সংগৃহীত চিত্র।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা—নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারকদের বৈঠকের প্রতীকী সংগৃহীত চিত্র।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন সরকার একটি স্বস্তিদায়ক নয়, বরং চাপপূর্ণ ও ভঙ্গুর অর্থনীতি পাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া রাজস্ব আয়, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার শর্ত—সব মিলিয়ে শুরুতেই বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশ ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক পৃথক বিশ্লেষণে এসব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছে এবং কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং নীতিগত স্বচ্ছতা জরুরি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতিগত দ্বিধার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের পর আস্থা পুনর্গঠনই হবে প্রথম কাজ।

অন্যদিকে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা চাপে রয়েছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক ব্যয় বাড়ানোর চাপ সামনে আসবে। অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরীর মতে, “আয় কম আর ব্যয় বেশি—এই ভারসাম্যহীন অবস্থায় সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।” ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। আইএমএফও সুদের হার কমানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতিগত শিথিলতা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের সুদহার কমানোর দাবি আপাতত বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এতে বিনিয়োগ ও বাজারচাহিদা পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হতে পারে।

ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার চাপও রয়েছে। আইএমএফের মতে, বর্তমান বিনিময় হার অতিমূল্যায়িত। এটি বাজারভিত্তিক করলে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, তবে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি, যা জনঅসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, নির্বাচনের পর চাহিদা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হতে পারে। তবে কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা, রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা ফিরিয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।