চলতি বছরেই মানুষকে টপকে যাবে এআই: ইলন মাস্ক


চলতি বছরেই মানুষকে টপকে যেতে পারে এআই: সতর্ক করলেন ইলন মাস্ক
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে তথ্যপ্রযুক্তি। সেই অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সতর্ক করে জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদই এমন এআই তৈরি হতে পারে, যা যে কোনো মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই মার্কিন উদ্যোক্তা বর্তমানে স্পেসএক্স, টেসলা, এক্সএআই (xAI) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি Zip2 ও PayPal-এর মতো সফল কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পেছনেও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রযুক্তি খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রভাব বিবেচনায় মাস্কের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে ফেসবুক, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহার করে মানুষের কাজ সম্পন্ন করছে। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনি কমছে কর্মসংস্থান। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মী ছাঁটাই বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বিশ্বের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এআই খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে— মানুষ কি সত্যিই এআইয়ের কাছে পিছিয়ে পড়বে? ইলন মাস্কের মতে, সেই সময় আর খুব দূরে নয়। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই সম্মিলিতভাবে সমগ্র মানবজাতির বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স এমন গতিতে এগোচ্ছে, যা সভ্যতা, অর্থনীতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে খুব দ্রুত আমূল পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ বছরে কী ঘটবে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা বড়জোর আগামী বছরের মধ্যেই এমন এআই আসতে পারে, যা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে এআই সমষ্টিগতভাবে মানবজাতির চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে মত দিয়েছেন গুগল ডিপমাইন্ডের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এজিআই বিজ্ঞানী শেন লেগও। তিনি জানান, ভাষা ব্যবহার ও সাধারণ জ্ঞানের মতো ক্ষেত্রে এআই ইতোমধ্যে মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যুক্তি প্রয়োগ, চাক্ষুষ উপলব্ধি এবং ধারাবাহিক শিক্ষার মতো দুর্বলতাগুলোও কাটিয়ে উঠবে এআই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি সৃষ্টি করছে কর্মসংস্থান ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ব্যবহারে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও মানবিক ভারসাম্য রক্ষা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।










