বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ, কিনছে না বিটিভি—তদন্তের সিদ্ধান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:৩১ এএম
বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে বিতর্কে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিভি । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে বিতর্কে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিভি । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কিনছে না বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। রোববার (২৯ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এবার সরাসরি স্বত্ব কেনা থেকে বিরত থাকছে বিটিভি। তবে দর্শকরা যাতে খেলা দেখতে পারেন, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া সম্প্রচার স্বত্ব বাংলাদেশে আসতে আসতে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কম দামে স্বত্ব কিনে তা বিটিভির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে এবং অতিরিক্ত অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়।

বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে ফিফা, যারা অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কাছে এই স্বত্ব হস্তান্তর করে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সম্প্রচার গ্রুপগুলো তা কিনে নিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে বিক্রি করে। এই বহুস্তরীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি জটিল বলয়।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় এ সিন্ডিকেটকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিটিভির কাছে স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য কখনো প্রকাশ করা হয়নি, ফলে পুরো বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ধোঁয়াশায় রয়েছে।

এদিকে নতুন বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবারও উচ্চমূল্যে স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এবার আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিটিভি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মূল্য, লেনদেন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে বহুদিনের অস্বচ্ছতা দূর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা যাবে।