আফ্রিকা কাপ অব নেশনস

আদালতের রায়ে সেনেগালের ট্রফি গেল মরক্কোর ঘরে

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
১৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:১১ এএম
CAF-এর আপিল রায়ে সেনেগালের জয় বাতিল হয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা পেল মরক্কো, ঘিরে তীব্র বিতর্ক। ছবি সংগৃহীত

CAF-এর আপিল রায়ে সেনেগালের জয় বাতিল হয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা পেল মরক্কো, ঘিরে তীব্র বিতর্ক। ছবি সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনাল ঘিরে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (CAF)-এর আপিল বোর্ড সেনেগালের জয় বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে। রাবাতে ১৮ জানুয়ারির ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের ১-০ গোলের জয়কে নিয়ম ভঙ্গের কারণে ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর পক্ষে দেওয়া হয়েছে।

CAF জানায়, ম্যাচ চলাকালে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সেনেগালকে ফাইনালের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রায় ১৫ মিনিট মাঠ ত্যাগ করার বিষয়টি রায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ অবস্থায় প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী ফল পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

ফাইনাল ম্যাচে কোচ পাপে থিয়াওর অধীনে সেনেগাল দল পেনাল্টির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ওই সময় কিছু দর্শকও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খেলা তখন গোলশূন্য ছিল এবং দীর্ঘ বিরতির পর ম্যাচ পুনরায় শুরু হয়।

পুনরায় খেলা শুরু হলে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। পরে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগাল একটি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয়। তবে মাঠের ঘটনাপ্রবাহ ও নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে সেই জয় শেষ পর্যন্ত বহাল থাকেনি।

এর আগে ম্যাচে বিতর্ক শুরু হয় যখন সেনেগালের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা মাঠে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। মরক্কোকে দেওয়া পেনাল্টি নিয়েও বিতর্ক ছিল।

প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় CAF সেনেগালকে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে এবং উভয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করে। তবে তখন ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত ছিল। আপিলের পর চূড়ান্তভাবে ফল পরিবর্তন হয়।

এদিকে সেনেগালের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রফি হাতে ছবি পোস্ট করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। একইভাবে এল হাজি মালিক দিওফও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা কেবল প্রতিযোগিতার নিয়ম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিল। তাদের ভাষায়, “আমরা কোনো দলের ক্রীড়া নৈপুণ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইনি, বরং নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চেয়েছি।”

CAF তাদের প্রতিযোগিতার আর্টিকেল ৮২-এর ধারা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দল ম্যাচ চলাকালে মাঠ ত্যাগ করলে বা খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের পরাজিত ঘোষণা করা হবে।

এই রায়ের ফলে ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবার আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা জিতল মরক্কো। অন্যদিকে দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ হারালো সেনেগাল, যদিও তাদের সামনে এখনো কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (CAS) আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্ভাব্য আপিলের ফলাফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা দুই দলের ভবিষ্যৎ সূচির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।