ব্যবহৃত মোবাইল বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে ডি-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক: বিটিআরসি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:৫১ এএম
এনইআইআর সিস্টেমের আওতায় মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দেশনা দিচ্ছে বিটিআরসি। ছবি: সংগৃহীত

এনইআইআর সিস্টেমের আওতায় মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দেশনা দিচ্ছে বিটিআরসি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি বা অন্যের কাছে হস্তান্তরের আগে অবশ্যই নিবন্ধন বাতিল করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন বাতিলের মাধ্যমে হ্যান্ডসেটটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে অবমুক্ত করতে হবে।

দেশে মোবাইল ফোন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে গত ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করেছে বিটিআরসি। এই ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা সব বৈধ মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর ফলে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মোবাইল চুরি সংক্রান্ত অপরাধ কমাতেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিজের নামে নিবন্ধিত কোনো মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা ফোনটি অন্য কাউকে ব্যবহারের জন্য দিতে বা বিক্রি করতে চাইলে আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটটি ব্যবহারকারীর এনআইডির সঙ্গে থাকা নিবন্ধন থেকে মুক্ত করা হবে।

ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সিম কেনার সময় যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল করা যাবে।

বিটিআরসি’র এক কর্মকর্তা জানান, “ডি-রেজিস্ট্রেশন না করে মোবাইল হস্তান্তর করলে ভবিষ্যতে আইনি ও কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই গ্রাহকদের সচেতন হওয়া জরুরি।” তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থা গ্রাহক সুরক্ষা ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।

ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও সহায়তার জন্য বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে বিটিআরসি’র কল সেন্টার ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।