এআই যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিআইজেএফ কর্মশালা


বিআইজেএফ আয়োজিত এআই–সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা, বিসিএস ইনোভেশন সেন্টার, ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়; এটি আজকের বাস্তবতা। কনটেন্ট তৈরি, তথ্য যাচাই, ডেটা বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নিউজরুম অটোমেশন—সাংবাদিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের কৌশল জানাতে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিসিএস ইনোভেশন সেন্টারে এক কর্মশালার আয়োজন করে।
“এআই ইন জার্নালিজম : ইমপ্যাক্ট, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড” শিরোনামের এ কর্মশালায় বিআইজেএফের সদস্যরা অংশ নেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “এআই কোনো জাদুর চেরাগ নয়; এটি ব্যবহার-নির্ভর একটি টুল। সঠিক টুল নির্বাচন ও যথাযথ প্রয়োগেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে এআইকে নিউজরুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে। তাই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।”
কর্মশালায় ব্যবহারিক দিক নিয়ে উপস্থাপনা করেন দ্য ডেইলি স্টারের ডিজিটাল গ্রোথ এডিটর আজাদ বেগ। তিনি দেখান কীভাবে পিন পয়েন্ট এআই ও নোটবুক এলএম ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত সংবাদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা যায়। তিনি আরও বলেন, “এআই সহায়ক প্রযুক্তি, প্রতিস্থাপক নয়। ভুল তথ্য বা অপরীক্ষিত উৎসের ওপর নির্ভর করে এআইও ভুল করতে পারে; তাই তথ্য যাচাই সবসময় সাংবাদিকের মূল দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিআইজেএফ সভাপতি হিটলার এ. হালিম। স্বাগত বক্তব্যে সহ-সভাপতি ভূঁইয়া ইনাম লেনিন বলেন, “প্রযুক্তির বিবর্তন থেমে থাকে না। ফটোশপের পর এআই এসেছে—আমাদেরও শিখতে ও পরিবর্তিত হতে হবে।” সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান জানান, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সময় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ প্রদান করেন প্রশিক্ষক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, বিআইজেএফ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা, বিসিএস মহাসচিব মো. মনিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবু চৌধুরী তুহিন। বিসিএসের মহাসচিব জানান, হার্ডওয়্যার বাজারে নকল ও রিফার্বিশড ডিভাইসের বিস্তার নিয়ে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, আগামী ২৯–৩১ জানুয়ারি চার বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বিসিএস ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো’।
বিএসএম সহযোগিতায় এবং প্রযুক্তি ব্র্যান্ড গিগাবাইট বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালা সাংবাদিকদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার, নৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ভবিষ্যতের পরিবর্তন বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।










