ইতিহাসের সেরা নির্বাচন দাবি প্রধান উপদেষ্টার

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২১ এএম
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি:সংগৃহীত

উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি:সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনকে ‘স্বস্তিদায়ক, অভূতপূর্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মহাসাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম ও শেষ বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ও আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা পরিষদ শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনকে সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে বলে জানান প্রেস সচিব।

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম জানান, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে করে অংশ নেবেন। তবে শপথ শেষে তারা পতাকা ছাড়া গাড়িতে বাসায় ফিরবেন, যা তাদের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের প্রতীক। অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, দায়িত্ব পালনে সরকার প্রায় ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জটিল আমলাতন্ত্র পেয়েছিলাম। সে প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বড় অর্জন।’ তিনি জানান, গত ১৮ মাসে সরকার অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা আনার চেষ্টা করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজনৈতিক শক্তি ও জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীরা বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে, যাতে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ভবিষ্যতে আইনে পরিণত হবে।